এই ব্লগটি সন্ধান করুন

বুধবার, ১ আগস্ট, ২০১২

কখনো চেষ্টা করেছ কি আমার মনটাকে খুলে পড়তে
কখনো আমার নিউরন কোষে উঁকি দিয়ে দেখেছ
সেখানে কার নাম লেখা আছে ?
কখনো আমার বুকে কান পেতে দেখেছে
হৃদয়ের ধ্বক ধ্বক শব্দ কার নাম করে সেথায় ?
...
কখনো আমার হাত কেটে গেলে সেখান থেকে রক্ত ঝরতে দেখেছ ?
গাড় টকটকে লাল রক্ত কণিকায় ফোঁটা ফোঁটা করে চুইয়ে পড়ে
যেন তোমার দেয়া সকল কষ্টগুলি রক্ত হয়ে ঝরে পড়ছে!
নীল বেদনা দেখেছ কখনো, তোমায় হারানোর কষ্টে হয়েছে গাঢ় নীল
আসলে তুমি কিছুই দেখনি
শুধু অবুঝ ভালোবাসায় ভাসিয়ে নিয়ে গেছ আমাকে
মরনের ওপাড়ে, যেখান থেকে আর
ফিরে আসা যায় না কোন কালে।

আমি দেখেছি তোমার ভালোবাসা আমার মনের গভীরে
খুলে দেখেছি আমার প্রতিটি নিওরোন কোষ বারে বারে
হৃদপিণ্ড খন্ড বিখন্ড করে দেখেছি সেথা
লোহিত কণিকার প্রতিটি ফোঁটা চিড়ে দেখেছি
সব খানেই তোমার নাম লেখা পেয়েছি
তুমি আছ, তুমি ছিলে; তুমিই থাকবে চিরকাল
মনের মাঝে, আমার মনের পূর্ণিমার চাঁদ হয়ে।
আরো দেখুন
মেঘমেদুর আকাশেতে ক্ষণে ক্ষণে উঁকি দিয়ে যাচ্ছে চাঁদ
যেন পূর্ণিমার আগমনের আভাস দিয়ে যাচ্ছে
সামনে পূর্ণিমা
ফকফকে জ্যোৎস্নার পথ চেয়ে বসে আছি আমি
কথা ছিল আমাদের দেখা হবে জ্যোৎস্না রাতে
...
তুমি পড়ে আসবে আমার দেয়া নীল সাড়ি খানি
নীল পরীর বেশে
আমাকে কিনে দিয়েছিলে হলুদ একটি পাঞ্জাবী
আমি তোমাকে বলেছিলেম হলুদ আমার অত্যন্ত অপছন্দের রঙ
তুমি কথা শোননি, আমাকে দেখতে চেয়েছ হিমুর বেশে কেন জানি।

আমি এখন প্রতি জ্যোৎস্না রাতে তোমার দেয়া হলুদ পাঞ্জাবী পড়ে
অপেক্ষায় থাকি, তোমার অপেক্ষা
তোমার দেয়া হলুদ পাঞ্জাবীটি বড্ড আগলে রেখে দিয়েছি যতন করে
যাতে সেথায় কোন দাগ না পড়ে
আজো প্রতি জ্যোৎস্না রাতে আলমিরা থেকে বের করি
ইস্ত্রির ভাজ খুলে গায়ে চড়াই তোমার দেয়া পাঞ্জাবী
তারপর অপেক্ষার পালা
একে একে সেই কত দিন কেটে গেছে
কত জ্যোৎস্না ঢলে পড়েছে অমাবস্যার গায়ে
কত বছর যে কেটে গেছে এখন আর তার হিসেব করে পাই না।

তুমি কথা রাখনি
একবারও আসোনি আমায় দেখা দিতে
আমার দেয়া নীল সাড়ি পড়ে
তবুও আমি অপেক্ষার প্রহর গুনি
প্রতি চন্দ্রবেলার হিসেব কষি সব কাজ ফেলে
যদি ভুল করে তুমি চলে আস সেই সুদুরের ওপার থেকে
তোমার হিমুর দেখা পেতে।
আরো দেখুন
ভ্রষ্ট নহি; নষ্ট নহি, যদিও কষ্ট মনে
এত কষ্টেও রেখেছি বন্ধন- বন্ধু তোমার সনে।
সারসংক্ষেপে করব বর্ণন জানুক সর্ব লোকে-
ক্লান্ত পথিক ক্ষান্ত মিশন, পাথর অধিক শোকে!

...
তুমি হলে হাই সোসাইটির আমি গ্রাম্য ভুত
এত কিছুর পরেও মোদের মিল ছিল অদ্ভূত।
একই বর্ষে একই বিষয় করতাম লেখা-পড়া
লক্ষ্য ছিল দুটি মনের সুন্দর জীবন গড়া।

সর্ব বিষয়; সব কিছুতেই ছিল ঐক্যমত
মাঝখান এসে তোমার বাবা- সাজল ঐরাবত!
ঐরাবতটা বলল হেসে- বেকার ছেলে জামাই(!)
কত টাকা গ্রাম্য ভুতের মাসের শেষে কামাই ?

চাকরীর খোঁজে দিশেহারা ভীত আমার মন
চাকরী পাওয়ার পূর্বেই তার সঙ্গী নির্বাচন!
বললাম তারে- এমন করে হঠাৎ বদলে গেলে??
আমার যায়গায় সঙ্গী করলে উঁচু তলার ছেলে?!

তোমার আমার মাঝে ছিল লক্ষ-যোজন ফাঁক
জানলাম তা অনেক পরে হলাম হতবাক!!!
আরো দেখুন
যদি দেখা হয়

যদি কোন এক শ্রাবণের বিষন্ন বিকেলে
দেখা হয় আচমকা আবার দু’জন দু’জনে,
হয়তো নিষ্পলক চোখে ঢেঢ় স্মৃতি চারণে
...
হারাবে দু’টি মন পুনঃ প্রেম নিবেদনে।
মধ্য বিত্তের ইচ্ছের কাছে প্রেম দ্বিধা গ্রস্থতায়
পরাজিত হয় বার বার সমকালীন অবহেলায়,
তবু এসেছিল প্রেম অনুর্বর বুকে স্মিত হেসে
অসম বৈষম্যের তরে প্রেম বিদায় নিল কেঁদে।

কত বসন্ত পেরিয়ে-কত নব যৌবন ফুরিয়ে
প্রেম জীবন কাব্যে বেঁ‍চে আছে ছন্দ হারিয়ে,
জীবনের মানে খোঁজা হল না আজো একবার
তবু প্রেম জেগে রবে ব্যথাহত মনে শতবার।
চেনা পৃথিবীটা হয়ে যায় বার বার অচেনা,
প্রেম বলে কিছু নেই আছে শুধু প্রতারনা
একদিন হৃদয়ে ছিল অনন্ত সুখের বারতা
প্রেম দিল অতৃপ্ত দুঃখের বিশাল বিমূঢ়তা।
পুরোনো অতীত ভুলে যাওয়া যেমন কঠিন
প্রেম-ভালবাসা শোধে না তেমন তার ঋণ,
প্রদীপ জ্বালানো যায় যতবার যতটা সহজে
নিভানো যায় না ঠিক ততবার সম সহজে।
হৃদয়ের রক্তক্ষরণে ভাষাহীন কবিতারা
পাখাহীন মেঘের ডানায় উড়ে আত্নহারা,
স্বপ্নীল প্রত্যয়ে সাজিয়েছিলাম বুকে বাসর
অলীক প্রত্যাশায় ভাঙ্গল তাই বুকের পাজর।
আরো দেখুন
মস্তিস্কের মাঝে সব জট পাকিয়ে যাচ্ছে ইদানিং
আবোল তাবোল সব ভাবনাগুলো একে একে মনের মাঝে উঁকি দিয়ে যায়
তোমায় নিয়েই যত ভাবনাগুলো
ভাবায় আমায় রাতদুপুরে অতি সংগোপনে।

...
সকাল বেলায় সূর্যলোকের কিরণ দিয়ে দিনের শুরু
তবু যেন মনের মাঝে মেঘের ডাক গুরু গুরু
ডাকছ আমায় কোথা থেকে কোন সুদুরে বসে থেকে
ওলোট পালট সকাল থেকেই কাজের দিনে হলো শুরু
ঘর থেকে যে বাহির হলাম, চৌকাঠেতে হোচট খেলাম
মা বললেন একটু বসে যা বাছা,
কোথায় জানি তোর লাগি কার মন পুড়ছে কোথা
কে জানি মনে করছে তোর কথা
আমি জানি কোথায় বসে ভাবছ তুমি
শুধুই আজ আমার কথা।

খাঁ খাঁ রোদ মাথার ওপর তবু পথে হেটে চলি
ছাতিম গাছ আর কোথাও নেই ভালো করেই সেটা জানি
তবু জানি কোথায় বসে শাড়ির আঁচল পেতে
মাথার ওপর ধরে আছ একটু ছায়া দিতে
রোদকে আমার বড় যে ভয়
ভালো করেই জানতে তুমি।

মধ্যাহ্নের অলস বেলায় তোমার কথা মনে পড়ে যায়
খাবার হাতে বসে থাকি তোমার কথা ভাবি
হঠাত করেই বিষম খেলে খুশিতে ভরে মন
কোথাও বসে ভাবছ তুমি আমার কথাই এখন
পানির গ্লাসটি এগিয়ে ধরে বলছ যেন আমায় তুমি
লক্ষ্মী ছেলে এক ঢোকেতে খালি কর গ্লাসের পানি।

বিকেল বেলায় বৃষ্টি নামে ঝুমঝুমিয়ে নুপুর পায়ে
ভিজতে মনে স্বাদ যে জাগে তোমার পাশে গুনগুনিয়ে
মনে মনে হাতটি বাড়াই যেন তোমার স্পর্শ যে পাই
দুজন মিলে বৃষ্টিবিলাশ দুজন মিলেই সন্ধ্যে হারাই
বর্ষা পাগল ছিলে তুমি বৃষ্টি পাগল ছিলেম আমি
বর্ষাদিনে কদম তলায় মধুর সুরে ডাকতে স্বামী।

কালের ফেরে ভাগ্য দোষে আজ আমারা ছিটকে গেছি
দুই ভুবনে দুজন বসে তবু আমরা ভালোবাসি
দুজন আছি দুই ভুবনে তবুও আছি মনের কোনে
যেন কাছে আছি দুজন মিলে মিশে মনে মনে
ভাগ্যকে দোষারূপ কোর না কিন্তু আর
একটুও মন খারাপ কর না যেন
সব সময়ই আছ তুমি আমার সাথে মিলেমিশে
আমার বুকের মধ্যখানে
হয়তো আবার আমাদের দেখা হবে অন্য ভুবনে অন্য বেশে
সেদিন দেখো, তোমাকে ঠিক খুঁজে নেব আমি
হারাতে দেবনা আর কোন ছলনাতে।
আরো দেখুন